শ্রীরামকৃষ্ণ
আমি আকাশের গায়ে দেখিলাম
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
আমি বাতাসের কাছে
শুনিলাম
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম।
ভাসিছে শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
নাচিছে শ্রীরামকৃষ্ণনাম।
পাখীরা গাহিছে আজ
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
পাখীরা জপিছে সব
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম।
গাহিছে শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
জপিছে শ্রীরামকৃষ্ণনাম।
রাজার সভায়
শুনিলাম
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
দীনের ঘরে
কাঁদিছে
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
রাজার বেশে শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
দুখের ঘরে শ্রীরামকৃষ্ণনাম।
জীবনে চলার পথে
অবিরাম
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
মরণের মাঝে
দেখিলাম
-
শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
জীবনে শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
মরণে শ্রীরামকৃষ্ণনাম,
বলো শ্রীরামকৃষ্ণনাম
গাহ শ্রীরামকৃষ্ণনাম।। ----------------------------------------
----------------------------------------
----------------------------------------
বিস্ময়
তুমি অসীমরূপে প্রকাশিয়ে
বিস্মিত করো বারে
বারে,
তোমার হিসাব করতে
গিয়ে
শুরুই শুরু গেল
ভরে ।
তুমি পুস্পমুকুল
প্রস্ফুটিয়ে
সৌরভ আনো কোথা
থেকে !
কোথায় তোমার
মধুভান্ড
মাতাল করে মক্ষিকাকে
।
আদি অন্ত খুঁজতে
গিয়ে
পড়ে রই অথই সায়রে,
তুমি অসীমরূপে
প্রকাশিয়ে
বিস্মিত করো বারে
বারে ।
আকাশপানে চেয়ে
শুধু
মেঘের দেখা পাই,
কেউবা দেখে
ঐখানেতে
দেবদেবীদের
স্বর্গসভায়।
নয়ন নিয়ে নয়ন দিয়ে
নাও তোমার করে,
তুমি অসীমরূপে
প্রকাশিয়ে
বিস্মিত করো বারে
বারে ।
তোমার শূন্য
মহাকাশে
চন্দ্রসূর্য আছে
ঝুলে,
কোথা থেকে আলোকছটায়
জগত হাসে তোমারকোলে।
অজানার খবর আনতে
গিয়ে
বিমান ছোটে বুকচিরে।
তুমি অসীমরূপে
প্রকাশিয়ে
বিস্মিত করো বারে
বারে ।
জীবের থেকে জীব
করো
কেন - সুখের থেকে
দুখ,
তোমার পঞ্চভুতের
খেলায়
জন্ম দেখে মরণমুখ।
অমৃতবনের হিসাব
ছেড়ে
কাঁদি অমৃতের তরে,
তুমি অসীমরূপে
প্রকাশিয়ে
বিস্মিত করো বারে
বারে ।
----------------------------------------------------------
----------------------------------------------------------
---------------------------------------------------------
তোমায় পেলে
দাও – আরও দাও –
আরও দাও
মোরে,
তব আনন্দের ধারা
-
আর যে কিছুই চাই
না ;
সবকিছু ভুলে
হলেম দিশেহারা ।
তুমি – শুধু তুমি
আর তুমি !
এ কি হলো – কেন
হলো ?
কি আগুন জ্বালালে
প্রাণে
জানিনে –
লাজ-মানের ভয় আর
নাহি যে ।
নাও – নাও – নাও
এ জীবন
এ পরাণ
আমার যত আছে সব ;
তুমি থেকো মোর
সাথে,
প্রতি পলে, প্রতি
ক্ষণে
মোর নিঃশ্বাসে –
প্রশ্বাসে
সব পাওয়া হবে
তোমায় পেলে
আর কিছু নাহি
চাহি যে !
---------------------------------------------------------
--------------------------------------------------------
---------------------------------------------------------
জীবন নদী
এ চঞ্চলমন
কখন যে কী চায় –
বোঝা ভারী দায়,
কখনও হর্ষ, কখনও
বিমর্ষ,
আমাকে ভাসায় –
আজ মন কিছু নাহি
চায়
তবুও যেন কিছু
চায়,
বুঝিতে পারে না
তবুও বুঝিতে চায়
।
জীবন প্রবাহে
যারা এসেছিল দলে
দলে,
রইলো তারা অবিকারে
মোর জীবন নদীর
কূলে ।
ওরা কথা বলে না
ওরা আর হাসে না
চেয়ে থাকে আমার
পানে !
অবুঝ মন ছুটে
গিয়ে
বসে তাদের পাশে,
দুখের গানে গানে।
আর যে সব অতিথি
বাঁধবে মোর
জীবনকূল,
জানি না কথায়
তারা
ভেবে ভেবে আকুল
তোমাকে দেব না
পশিতে
যদি আসিতে চাও
সুখে,
আমি ‘হার’-এর
মালা পরে
মেতে রব
দৈন্যদুখে ।
------------------------------
------------------------------
-------------------------------



