*৫ই ডিসেম্বর ১৯৪৮, রাত্রি ১১:১৫।*
পুরুতমশাই হাঁক পাড়লেন, "লগ্ন যে বয়ে যায়! পাত্র কোথায়?"
হঠাৎ কলকাতার বনেদি ঘোষ বাড়ির বিয়ের মণ্ডপে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সানাইয়ের সুর থেমে গেছে। অদ্ভুত থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ততক্ষনে নিমন্ত্রিতদের অর্ধেক খাওয়াদাওয়া করে ফিরে গেছে। আর যারা থেকে গেছে তাদের মধ্যে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। বাড়ির অন্দরমহল থেকে থেমে থেমে ভেসে আসছে কান্নার আওয়াজ।
বিয়ের লগ্ন প্রায় শেষ হতে চলেছে তবু বরযাত্রী এসে পৌঁছায়নি দেখে খোঁজ নিতে গেছেন পাত্রীর কাকা। কিছুক্ষন পর তিনি পাত্রের বাড়ি থেকে শূন্য হাতে ফিরে এসে জানালেন, পাত্র বৌবাজারের এক বেবুশ্যেকে নিয়ে পালিয়েছে। সাথে সাথেই এতক্ষন যে চাপা গুঞ্জন চলছিল তা পরিবর্তিত হলো সুতীব্র কান্নায়। খবর শুনেই পাত্রীর বাবা ও মা উভয়েই মূর্ছা গেলেন।
ততক্ষনে লগ্নভ্রষ্টা হয়েছে পাত্রী। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, কে বিয়ে করবে একে? সারা জীবন কি অবিবাহিতা হয়ে বাপের দোরেই থাকবে ও? ঠিক তখনই এগিয়ে এলেন চৌত্রিশ বছরের এক মহানুভব সুপুরুষ। যিনি সম্পর্কে পাত্রীর নিজ জামাইবাবু। কিন্তু আট বছর পূর্বেই ওনার স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে। চোখের জল মুছে নতুন উদ্যোমে বিয়ের কাজে নেমে পড়ে কনের বাড়ির লোক। কাজে হাত লাগায় ছেলের বাড়ির সদস্যরাও। এই দম্পতির সুদীর্ঘ বৈবাহিক জীবন ২০০৩ সাল অবধি স্থায়ী হয়েছিল।
আপনারা কি আন্দাজ করতে পেরেছেন এই দম্পতির পরিচয়? 🤔
.
পাত্রীর নাম শ্রীমতি কমলা ঘোষ বসু এবং সেই মহানুভব পাত্র হলেন
.
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু
(সংগৃহীত)
No comments:
Post a Comment